
জামায়াতের সঙ্গে ‘ইসলামপন্থী দলগুলো’ আসন সমঝোতা
- আপলোড সময় : ২৫-০২-২০২৫ ০১:০৭:৪৪ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৫-০২-২০২৫ ০১:০৭:৪৪ অপরাহ্ন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আসন সমঝোতা বা আসন বন্টন প্রক্রিয়ার পথে এগুচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ দেশের ইসলামপন্থি দলগুলো। ইতোমধ্যে দলগুলোর মধ্যে প্রাথমিক আলাপ—আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে মতাদর্শিক পার্থক্যসহ অন্যান্য কারণে দেশের বৃহত্তম ইসলামী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এদের কোনো নির্বাচনী জোট হচ্ছে না। কিন্তু নির্বাচনী জোট না হলেও নির্বাচনী আসন ভিত্তিক এক ধরনের আসন বণ্টন সমঝোতা হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আলাপ—আলোচনা চলছে। তবে শেষ মুহূর্তে জামায়াত এদের সঙ্গে যোগ দেবে কি না কিংবা জামায়াত—বহির্ভূত দলগুলো দলবদ্ধভাবে জামায়াতের সঙ্গে যোগ দেবে কি না—সেটা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের সঙ্গে দেশের ইসলামপন্থি দলগুলোর মধ্যে যে আলাপ—আলোচনা চলছে, সেটা ঠিক জোট গঠনের দিকে যাচ্ছে না। এটাকে নির্বাচনী আসনভিত্তিক এক ধরনের আসন বণ্টন সমঝোতা বলা যেতে পারে। কারণ অনেক আগে থেকেই জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্যান্য ইসলামপন্থি দলগুলোর সঙ্গে এক ধরনের আদর্শিক মতবিরোধ চলে আসছে। যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে আলোচন ফলপ্রসূ না হলে আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীকে বাদ দিয়ে অন্যান্য ইসলাম পন্থী দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতা করে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে পারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
সূত্র জানায়, নির্বাচনী জোট করার লক্ষ্যে স¤প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বরিশালের চরমোনাইয়ে গিয়ে চরমোনাই পীর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ—এর আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট হবে না। তবে নির্বাচনী সমঝোতার বিষয় নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সমঝোতা হলে ইসলামপন্থি দলগুলো মিলে আসনভিত্তিক প্রার্থী দেবে। যেখানে যে দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, সেখানে ইসলামপন্থী দলগুলো সম্মিলিতভাবে ওই প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাবে।
এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই ২১৩টি আসনে নিজস্ব দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াত। তবে ইসলামপন্থী অন্যান্য দলের নেতারা বলছেন, জামায়াত যেসব আসনে প্রার্থী দিয়েছে, সেসব আসনে ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যান্য ইসলামপন্থি দলেরও যোগ্য প্রার্থী রয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী ২১৩টি আসনে প্রার্থী ঠিক করেছে। সমঝোতা হলে তারা তাদের প্রার্থী পরিবর্তন করবে। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে শিগগিরই এসব বিষয় নিয়ে বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে রাজনৈতিক আদর্শের বিষয়সহ নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া খেলাফত মজলিসসহ অন্যান্য ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে। তারপরও বর্তমান প্রেক্ষাপটে সবকিছু ভুলে আমরা চাইছি যে, আমাদের ভোট যেন সামনে আর ভাগাভাগি না হয়। সে জন্য সমঝোতার মাধ্যমে ইসলামী দলগুলো দেশের ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে শামিল হতে চায়। তিনি জানান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৩০০ আসনে যোগ্য প্রার্থী রয়েছে। গত নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়া হয়েছিল।
ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলেই সমঝোতার একটি রূপ রেখা দেখা যাবে। কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামভুক্ত নেতাদের কয়েকটি রাজনৈতিক দলও সমঝোতার আওতায় থাকবে।
নেজামে ইসলাম পার্টির একজন নেতা জানান, জামায়াতে ইসলামী বাদে অন্য ইসলামী দলগুলোর ঐক্য প্রক্রিয়া অনেকটাই অগ্রসর হয়েছে। নানা বিষয়ে মত পার্থক্য থাকলেও এক সঙ্গে কারাগারে থাকাকালীন সময়ে পৃথক দল করা ইসলামী আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের মধ্যে হৃদরোতা বেড়েছে। এমতাবস্থায় সব ইসলামী দলের ভোট ‘এক বাক্সেই’ থাকুক— এটাই আমরা চাচ্ছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসলামী শাসনতন্ত্রের একজন নেতা বলেন, নির্বাচনী জোট করা হবে না। এর কারণ হচ্ছে, আমরা অনেক জোট দেখেছি। এক সময় শরিকদের ভুলে যায়। আর বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের বিষয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কারণ তাদের সব কর্মকাণ্ড মেনে নেয়া যায় না। একইকথা বলেছেন আরও বেশ কয়েকটি ইসলামপন্থী দলের নেতারা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ